ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আজ বুধবার তাদের বহুল আলোচিত নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করতে যাচ্ছে। ‘জনতার ইশতেহার’ নামের এই ঘোষণাপত্রটি রাজধানীর বনানীতে একটি অভিজাত হোটেলে সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, এবারের ইশতেহার কেবল ভোটের প্রতিশ্রুতি নয়; বরং রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি সমন্বিত সংস্কার পরিকল্পনা হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। জামায়াত নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইশতেহারের মূল ভিত্তি হচ্ছে অধিকার, ন্যায্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা। এতে দুর্নীতি দমন, শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি চাকরির সংখ্যা বাড়ানোর আশ্বাসের পরিবর্তে শিল্প, কৃষি, আইটি ও সেবা খাতকে সমন্বিতভাবে উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। জেলা পর্যায়ে কারিগরি ও প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, যুব উদ্যোক্তাদের জন্য সুদমুক্ত স্টার্টআপ তহবিল এবং ফ্রিল্যান্সিং ও রিমোট কাজের সুযোগ বাড়াতে রাষ্ট্রীয় সহায়তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ দিক। কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা, সমান মজুরি, মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা, ডে-কেয়ার সুবিধা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচারের অঙ্গীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ নারীদের জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহায়তা ও গৃহভিত্তিক শিল্পে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কৃষকদের জন্য ভর্তুকিনির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। ন্যায্যমূল্য আইন প্রণয়ন, সুদমুক্ত কৃষিঋণ, ইউনিয়ন পর্যায়ে হিমাগার স্থাপন এবং সার ও বীজ সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের কথা ইশতেহারে থাকছে।
এছাড়া ব্লু ইকোনমিকে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে তুলে ধরে উপকূলভিত্তিক শিল্প, গবেষণা কেন্দ্র এবং আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। ব্যবসায়ীদের জন্য আগামী দুই বছর নতুন করে কর না বাড়ানো এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য স্থিতিশীল রাখার প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য অংশ।