ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে দেশব্যাপী ১০ দিনব্যাপী বিশেষ প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যেসব আসনে এনসিপির নিজস্ব প্রার্থী থাকবে, সেখানে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নেতৃত্বেই গণভোটের প্রচারণা চলবে। আর যেসব আসনে এনসিপির প্রার্থী থাকবে না, সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার জন্য বিশেষ ‘অ্যাম্বাসেডর’ বা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে।
এই কর্মসূচির সার্বিক নেতৃত্ব দেবেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই দেশব্যাপী গণভোটের প্রচারণায় মাঠে নামবে এনসিপি।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, “খুব শিগগিরই আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ক্যাম্পেইনে নামব। ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে আসনভিত্তিক অ্যাম্বাসেডর বা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের মূল কাজ হবে জনগণকে সচেতন করা এবং বোঝানো কেন ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রয়োজন ও কেন এটি জয়ী হওয়া জরুরি।”
সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিতে যাচ্ছে এনসিপি। প্রাথমিকভাবে ৩০টি আসনে সমঝোতার আলোচনা থাকলেও এখনো চূড়ান্ত আসন বণ্টন হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত ৪৪টি আসনে এনসিপির প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হলে নিজ দলের প্রার্থীরা সরে দাঁড়িয়ে জোট প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে কাজ করবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে দলের সার্বিক প্রস্তুতি, মাঠপর্যায়ের সমন্বয়, আইনি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম, মিডিয়া ও প্রচারণা, মনিটরিং এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা জোরদার করতে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
পুনর্গঠিত ৩১ সদস্যের এই কমিটিতে চেয়ারম্যান করা হয়েছে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে এবং সেক্রেটারি করা হয়েছে মনিরা শারমিনকে। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি, তানজিল মাহমুদ, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা, অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, আকরাম হুসাইন, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া, লুৎফর রহমান, সাগুফতা বুশরা মিশমা, ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, তাহসীন রিয়াজ, লে. কর্নেল (অব.) মো. সাব্বির রহমানসহ মোট ৩১ জন নেতা।
গণভোটকে সামনে রেখে এনসিপি সারা দেশে মোট ২৭০ জনকে ‘হ্যাঁ ভোট অ্যাম্বাসেডর’ ঘোষণা করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তারা কেউই সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী নন। মাঠপর্যায়ে জনমত গড়ে তোলা এবং জনগণের কাছে গণভোটে দলের অবস্থান ও বার্তা পৌঁছে দেওয়াই হবে তাদের প্রধান দায়িত্ব।
২৭০টি আসনে প্রতিনিধি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, “জোটের যেসব আসনে প্রার্থী থাকবে, সেখানে তারাই কাজ করবেন। যেসব আসনে আমাদের প্রার্থী নেই, সেখানেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।”
দলীয় নেতাদের প্রত্যাশা, এই পরিকল্পিত ও সংগঠিত কর্মসূচির মাধ্যমে গণভোটের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে আরও স্পষ্ট হবে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে শক্ত অবস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে।