নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আমজাদ হোসেনের নির্বাচনী জনসভায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা গভীর উদ্বেগ ও নিন্দার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

৩ ডিসেম্বর বিকেলে মেহেরপাড়া ইউনিয়নের শেখেরচর বাসস্ট্যান্ডে জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সভায় প্রায় ৫০–৬০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী বিএনপি নামধারী গ্রুপের দ্বারা হামলা চালানো হয়। তারা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে সভা ভেঙে দেয়। এই ঘটনায় মাওলানা আমজাদ হোসেনসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া তিনজন কর্মী এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নামে এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। জামায়াত শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিশ্বাস করে। ভোটের মাঠে সন্ত্রাসী হস্তক্ষেপ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আহত নেতাকর্মীদের দ্রুত সুস্থতার প্রার্থনা করেছেন এবং তাদের পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানান।

সঙ্গে তিনি দেশের জামায়াত নেতাকর্মীদের শান্তি, ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার ও সকল প্রার্থীর জন্য নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্যও তিনি তৎপর থাকার কথা বলেন।

আজ দুপুরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আহতদের হাসপাতালে দেখতে যান। সঙ্গে ছিলেন মাওলানা আমজাদ হোসেন এবং স্থানীয় দলের নেতারা। তারা আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের প্রতি যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার অনুরোধ জানান।

এই হামলা নির্বাচনী শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সকল পক্ষকে আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে দিয়েছে।