ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নারী নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে দলটির মহিলা শাখা। আগামী ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা জানান দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, জামায়াতের ইতিহাসে এই প্রথম নারী সংগঠন বাধ্য হয়ে প্রকাশ্যে রাজপথে নামছে। কারণ হিসেবে তিনি নারী কর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা ও ভয়ভীতির পরিবেশের কথা উল্লেখ করেন।
ডা. তাহের সতর্ক করে বলেন, ঘোষিত সমাবেশে বাধা সৃষ্টি করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকেও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং নারী কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
নির্বাচন বর্জনের গুঞ্জন নাকচ করে তিনি বলেন, হামলার ঘটনাগুলোকে অজুহাত বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিটি ঘটনার প্রামাণ্য তথ্য জামায়াতের কাছে রয়েছে। মূলত সহিংসতার মাধ্যমে দলটিকে মাঠছাড়া করার অপচেষ্টা চলছে, তবে জামায়াত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে না।
নারীদের ওপর হামলার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত থাকলে নারীদের রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ভয়ংকর প্রবণতা তৈরি হবে। এটি শুধু কোনো দলের সমস্যা নয়, বরং একটি জাতীয় মানবাধিকার সংকট। যেখানে নারী নিরাপদ নয়, সেখানে গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নির্বাচনী কর্মসূচিতে আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা।