বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, বাংলাদেশ যেন আবারও ফ্যাসিবাদী পরিচিতি না পায়। তিনি বলেন, “মানুষকে ধোঁকা দিয়ে কোনো কাজ হবে না। আমাদের লক্ষ্য একটি মানবিক, সুশৃঙ্খল ও জনগণমুখী বাংলাদেশ গড়া।”
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ড. মঈন খান আরও বলেন, “বর্তমানে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশে অবস্থান করছি। ২০৫০ সালের মধ্যে ঢাকা বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ বৃহত্তম শহর হবে। সেই শহরকে কীভাবে পরিচালনা করা হবে—এটি এখনই ভাবার বিষয়।”
তিনি আশ্বস্ত করেছেন, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি এখনো শক্ত নয়, কিন্তু ইনফরমাল ইকোনমির মাধ্যমে মানুষ বেঁচে আছে। ভবিষ্যতে যারা দেশের নেতৃত্ব নেবেন, তাদেরকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।
ড. মঈন খান বর্তমান সরকারের ওপরও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ দেশসেবা না করে আত্মসেবা শুরু করেছিল। তারা সমাজের ধনী অংশকে নিয়ন্ত্রণে রেখে অলিগার্কি ব্যবস্থা গড়েছে। এর ফলে দরিদ্র মানুষের দুর্দশা আরও বেড়েছে।”
তিনি মনে করিয়েছেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশে গণতন্ত্রের পূর্ণ চিত্র গড়ে ওঠেনি। “একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র এবং দরিদ্র মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। যারা অতীতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বা বর্তমানে দিচ্ছেন, তাদেরকে এ বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে। ভবিষ্যতের নেতৃত্বও প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে ক্ষমতায় এলে এসব সমস্যার সমাধান হবে।”
ড. মঈন খান আরও বলেন, “স্বৈরশাসকের আগমন মানেই মানুষের বাকস্বাধীনতার অবনতি। তবে ইতিহাস দেখায়, প্রতিবার মানুষ প্রতিবাদ করেছে। আজকের আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিষ্ঠুর হয়ে পড়েছে, কারণ এটি মানুষের অনুভূতি ভোঁতা করে দেয়। ভবিষ্যতের নেতৃত্বকে জনগণকে মানুষ হিসেবে গণ্য করতে হবে।”
সভায় ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ অন্যান্য সদস্যরা।