আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র আড়াই মাস আগে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন জোট বা প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই তৎপরতা রাজনৈতিক মহলকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। যেসব দল এই জোটে যুক্ত হওয়ার আলোচনা করছে, তাদের বেশিরভাগেরই ভোটের নির্বাচনে অংশগ্রহণের শক্তিশালী ইতিহাস নেই।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে রাজনীতিতে দলগুলোর মধ্যে নতুন করে সম্পর্ক তৈরি বা ভাঙনের খবর শোনা যাচ্ছিল। সম্প্রতি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আলোচনা আরও গতি পেয়েছে। বিশেষ করে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে ঘিরে পুরোনো দলগুলো নানা হিসাব-নিকাশ করছে। এনসিপি নির্বাচনের আগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে আসন ভাগাভাগি বা নতুন জোট গঠনের কৌশল নিয়েছে।

জানা গেছে, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, এবি পার্টি এবং ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ এর মধ্যে জোট গঠনের আলোচনা চলছে। এই দলগুলো গত মাসখানেক ধরে একসঙ্গে কর্মসূচিও পালন করছে।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের আহ্বানে নভেম্বর মাসের শুরুতেই তাদের কার্যালয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দল বৈঠক করে। জোট গঠনের আলোচনায় মোট নয়টি দল অংশ নিতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, এবি পার্টি, গণতন্ত্র মঞ্চ এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম এই আলোচনা নিশ্চিত করে বলেন, "অভ্যুত্থানের যে আশা এবং অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য যারা বিএনপি-জামায়াত জোটের বাইরে থেকে রাজনীতি করতে চায়, তাদের নিয়ে এই ঐক্যের আলোচনা হচ্ছে।" তিনি জানান, এটি প্রধানত একটি রাজনৈতিক জোট হওয়ার সম্ভাবনা।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরও এই আলোচনায় ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থান কোনো প্রতিষ্ঠিত দলের নেতৃত্বে হয়নি, বরং কিছু তরুণ বিচ্ছিন্নভাবে এই গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করেছিল। তিনি মনে করেন, রাজনীতিতে কালো টাকা ও ক্ষমতা কাঠামো পরিবর্তনের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্যই এই জোট গঠনের চিন্তা-ভাবনা।

যদিও এই জোট গঠনের আলোচনায় থাকা দলগুলোর নেতারা মনে করেন, ভোটের রাজনীতিতে এর প্রভাব কিছুটা কম হতে পারে, তবে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, "ভোটের মাঠে ইম্প্যাক্ট কম হলেও রাজনৈতিক গুরুত্বের বিবেচনায় এটি জনবান্ধব, সংস্কারপন্থী এবং গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নিতে দলগুলোকে বাধ্য করবে।" তিনি মনে করেন, এটি রাষ্ট্রের এককেন্দ্রিক ক্ষমতা কাঠামোর বিকেন্দ্রীকরণ ও ভারসাম্য আনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ মনে করেন, এনসিপি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলেও নির্বাচনি রাজনীতি ভিন্ন। তিনি পরামর্শ দেন, এই জোটকে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে এমন 'চমকপ্রদ' বিষয় তুলে ধরতে হবে, অন্যথায় বিএনপি-জামায়াতের মতো পুরোনো দলগুলোর বিপরীতে তাদের পাস করা কঠিন হবে।

ইএফ/