ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি দাবি করেছে, তফসিল ঘোষণার পরদিনই হাদির ওপর গুলিবর্ষণ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচালের অংশ।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট ঘিরে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “এটি স্পষ্ট টার্গেট কিলিং। গণতান্ত্রিক ধারাকে অস্থিতিশীল করতে এবং জুলাইয়ের জনঅভ্যুত্থানে যে সাহসী শক্তি সৃষ্টি হয়েছে, তাকে ভয় দেখাতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।”

তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সিইসি—সবার ভাষণে কঠোরতার কথা শোনা যায়। কিন্তু রাজধানীর রাস্তায় হাদির মতো জনপ্রিয় নেতাই যখন নিরাপদ নন, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকির মুখে—তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই।”

হাদির ওপর হামলার দ্রুত বিচার দাবি করে বুলবুল বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে জনগণ রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।” তিনি আরও বলেন, “সরকার যদি নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আবারও জনতার অভ্যুত্থান দেখা দিতে পারে।”

জামায়াত নেতা অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যতদিন রাজনীতি পরিচালিত হবে, ততদিন দেশে কোনো নির্ভেজাল নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিরাপত্তা আজ থেকেই নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বুলবুল বলেন, “হাদিকে হত্যাচেষ্টায় যারা জড়িত, তাদের পরিকল্পনাকারী থেকে সহযোগী—সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এদের গডফাদারদেরও চিহ্নিত করতে হবে। নির্বাচনকে ঘিরে দেশে যে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা চলছে, তা প্রতিহত করতে না পারলে ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।”

সমাবেশটি পরিচালনা করেন মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ড. আব্দুল মান্নান, শামসুর রহমান, আব্দুস সালাম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, কামরুল আহসান হাসান, শাহীন আহমেদ খান প্রমুখ।