নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণ বসে থাকবে না। জনগণ নিজ দায়িত্বে সুষ্ঠু ভোট আদায় করে নেবে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো পক্ষের আনুকূল্যও তারা চান না এবং কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়াও দেখতে চান না। অতীতের মতো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন নির্দিষ্ট কোনো দলের পক্ষে অবস্থান না নেন—এ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি জানান, বৈঠকে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। গণভোটে জামায়াত ও জোটের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সংস্কার প্রস্তাবের বৈধতা নিশ্চিত করতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তারা শুরু থেকেই মাঠে কাজ করছেন এবং বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হবে বলে তারা আশাবাদী।

‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ খুলবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এতে অতীতের নির্যাতন ও দুঃশাসনের অবসান ঘটবে এবং শহীদদের বিচার নিশ্চিত হবে। তিনি ১৪০০ শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট সবসময়ই সংস্কার, পরিবর্তন ও সুশাসনের পক্ষে ছিল। দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে জাতি কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ও গুড গভর্নেন্স নিশ্চিত করা গেলে দেশ পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসবে।

যুবসমাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, তরুণরা ভাতা নয়, কাজ ও সম্মান চায়। তাদের হাতেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ তুলে দিতে চায় জামায়াত। নির্বাচনের দিন গুজব ও বিভ্রান্তিতে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপচেষ্টা সফল হবে না। শেষ পর্যন্ত জনতারই বিজয় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।