১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সরে যাওয়ার পেছনে যে তিনটি কারণ দেখানো হয়েছে, তার অন্যতম হলো— জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন প্রচলন করবে না। তবে এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দেওয়া বক্তব্যে কোনো অসংগতি দেখছেন না বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে তিনি জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগ— জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন প্রচলন করবে না— এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মামুনুল হক বলেন, জামায়াত আমিরের বক্তব্যের মূল অর্থ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যে সাংবিধানিক ও নির্বাচনভিত্তিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে এক দফায় বা হঠাৎ করেই শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অগ্রসর হতে হয়— জামায়াত আমির সেটিই বোঝাতে চেয়েছেন। এ বক্তব্যে কোনো অসংগতি নেই।

ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে সরে যাওয়ার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ষড়যন্ত্র আছে বলে মনে হচ্ছে না। সবাই মিলে একসঙ্গে নির্বাচনে যেতে না পারাকে তিনি নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন।

ইসলামী আন্দোলনের সরে যাওয়া আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কি না— জানতে চাইলে মামুনুল হক বলেন, ঐক্যের আহ্বান থেকে ১০ দল সরে যায়নি। সম্মিলিতভাবে নির্বাচন করার অঙ্গীকার এখনও বহাল আছে। ফলে এর বড় কোনো প্রভাব পড়বে বলে তিনি মনে করেন না।

ইসলামী আন্দোলন সরে যাওয়ায় ফাঁকা থাকা ৪৭টি আসন ১০ দলের সমঝোতার ভিত্তিতেই বণ্টন হবে বলে জানান তিনি। শুরু থেকেই যে প্রক্রিয়ায় আসন বণ্টন হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন না থাকায় একই প্রক্রিয়ায় সমঝোতার মাধ্যমে আসন ভাগ করা হবে। যে আসনে যে দলের প্রার্থী সবচেয়ে শক্তিশালী বলে বিবেচিত হবেন, তাকেই একক প্রার্থী করা হবে।

আরও জানান, যেসব আসনে সমঝোতা হয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট দলের প্রার্থী ছাড়া অন্যরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। এটি ঐক্যবদ্ধভাবেই করা হবে। ১৯ জানুয়ারির আগে নতুন কোনো রাজনৈতিক মোড় আসার সম্ভাবনাও দেখছেন না তিনি। ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনের পর ১০ দল ধরে নিয়েই কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে যে তারা ৩০০ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে ভবিষ্যতে আসন সমঝোতার কোনো সুযোগ আছে কি না— এমন প্রশ্নে মামুনুল হক বলেন, এই মুহূর্তে আসন সমঝোতার আর কোনো সুযোগ নেই। তবে রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে ১০ দলের ইসলামপন্থি দলগুলো সঠিক পথে আছে কি না— এমন প্রশ্ন তোলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সঠিক পথেই রয়েছে। সবার অনুভূতি এক রকম হয় না, তবে অন্যের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানানোই তাদের রাজনৈতিক অবস্থান।