জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের রাজনৈতিক আদর্শ ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করতে জামায়াতের সঙ্গে কোনো জোট বা সমঝোতায় যেতে রাজি নয়। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া এনসিপির জন্য কঠিন মূল্য বহন করতে হতে পারে।

সামান্তা শারমিন উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘জুলাই স্পিরিট’ ও দেশপ্রেমের সঙ্গে একমত হলে যে কোনো দল তাদের সঙ্গে জোট করতে পারে। তবে এনসিপি দীর্ঘদিন ধরে যে আদর্শ ও রাষ্ট্রকল্প ধরে চলে, তা জামায়াতের সঙ্গে পুরোপুরি ভিন্ন। বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা দল হিসেবে এনসিপি এই তিনটি মূলনীতি ছাড়াই কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা করতে রাজি নয়।

তিনি আরও বলেন, “নিম্নকক্ষে পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) ব্যবস্থার আওয়াজ তুলতে গিয়ে জামায়াত সংস্কার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। তাই যারা সংস্কারের পক্ষে নয়, তাদের সঙ্গে জোট সম্ভব নয়।” সামান্তা শারমিনের কথায়, জুলাই পদযাত্রার পর এনসিপি ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

এছাড়া, তিনি স্পষ্ট করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করার মানে বিএনপির পক্ষে অবস্থান নেওয়া নয়। বরং এটি এনসিপির আদর্শ এবং সংগঠনের দীর্ঘদিনের অবস্থানকে সমর্থন করার অংশ। তিনি বলেন, “আমি নিজেকে এই আদর্শের সৈনিক মনে করি। বিএনপি বা জামায়াত– যেকোনো জোট এনসিপির মৌলিক নীতি থেকে সরে যাওয়ার সমতুল্য।”

রাজনীতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপি তাদের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রেখে নির্বাচনী মাঠে নিজেদের আদর্শিক প্রভাব দেখাতে চায়। সামান্তা শারমিনের বক্তব্য তাই দলের আত্মপরিচয় ও নীতি রক্ষার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।