বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা ও সম্ভাব্য ভিড় নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গত রাত থেকেই কঠোর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে দেখা যায়—হাসপাতালের মূল ফটকের দুই পাশে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং প্রবেশমুখে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অনুমোদিত ব্যক্তিদের বাদে অন্য কাউকে সামনে দাঁড়াতেও দেওয়া হচ্ছে না।

পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা জানান, সোমবার গভীর রাত ২টার দিকে মূল ফটকের সামনে ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়। একই সময়ে হাসপাতালের আশপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়, যাতে অযাচিত ভিড় ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো যায়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য—এটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুরোধেই করা হয়েছে, রোগীদের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি ছিল।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সামগ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে রোগীর পরিবারের সদস্য, দর্শনার্থী ও বহিরাগতদের প্রবেশের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এতে খালেদা জিয়াকে নিয়ে অযথা ভিড় বা রাজনৈতিক কর্মীদের আনাগোনা প্রতিরোধে সুবিধা হচ্ছে।

এদিকে সোমবার গভীর রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান। তার সঙ্গে ছিলেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তারা হাসপাতালের মেডিকেল টিমের সঙ্গে রোগীর সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। তবে সাক্ষাৎ শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।

বিএনপি সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। নিরাপত্তা বাড়ানোয় দলের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।