ফটিকছড়িতে অনুষ্ঠিত ছাত্র ও যুব সমাবেশে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেছেন, সন্ত্রাস, পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্য ও লুটপাটের বিরুদ্ধে তারা সবসময় দৃঢ় অবস্থান নেবে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নই, কিন্তু যারা অমানবিক কর্মে লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে আমরা সবসময় দাঁড়াবো। ফটিকছড়িতে আমাদের অনেক ভাই রক্ত দিয়েছেন, আমরা তা ভুলিনি।”
সমাবেশে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, একসময় দেশের ধানভরা গোলা আর পুকুরভরা মাছ ছিল, কিন্তু শেখ মুজিবের শাসন ও লুটপালতন্ত্রের কারণে দেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার আমলে সেনা কর্মকর্তা, আলেম-ওলামাসহ অনেক মানুষ হত্যা ও গুমের শিকার হয়েছেন।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, “স্বাধীনতা বারবার হরণ করা হয়েছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকাল থেকেই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছিল। এ ধারাবাহিকতা স্বাধীনতার পরেও থেমে নেই।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তরের সভাপতি তানজির হোসেন জুয়েল, দক্ষিণের সভাপতি মাইনুল ইসলাম মামুন, চবি শাখা সভাপতি মোহাম্মদ আলি, উত্তর জেলা সভাপতি শওকত আলী এবং উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার।
অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন তার বক্তৃতায় প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে ফটিকছড়ি ও ভূজপুরে আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ, নতুন হাসপাতাল, শিক্ষা উন্নয়ন, ১৭টি অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া নতুন সড়ক–সেতু, ফায়ার স্টেশন, পল্লী বিদ্যুৎ ও গ্যাস সম্প্রসারণ, বাজার আধুনিকায়ন, কারিগরি শিক্ষা বৃদ্ধি, শিল্পাঞ্চল ও পর্যটন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি সমাবেশে বলেন, “নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচন সামনে এসেছে। ২০০৮ সাল থেকে শহীদ হওয়া আন্দোলনকারীদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।”
জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য ও সমাবেশের আয়োজন স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, ছাত্রশিবির যুব সমাজকে নৈতিক ও দেশপ্রেমিকভাবে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার রাখছে।