ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ২২৪ আসনে প্রার্থী দিচ্ছে। প্রতিটি প্রার্থীকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে হলফনামা জমা দিতে হয়েছে, যাতে বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, আয়-সম্পদ, মামলার তথ্যসহ মোট ১০ ধরনের তথ্য উল্লেখ থাকে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জামায়াতের ২০১ জন প্রার্থী উচ্চশিক্ষিত, যার মধ্যে ১০ জন পিএইচডি ডিগ্রিধারী। এছাড়া ৭৫ জন শিক্ষক বা প্রাক্তন শিক্ষক, ৬৯ জন ব্যবসায়ী এবং আইনজীবী, চিকিৎসক, কৃষক ও চাকরিজীবীর সংখ্যা যথাক্রমে ২৬, ১৬, ১৪ ও ১১ জন।
পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের মধ্যে রয়েছেন পটুয়াখালী-২ আসনের শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা-৬ আসনের আব্দুল মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া প্রমুখ। স্বশিক্ষিত বা সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন প্রার্থী দুইজন।
বয়স ও অভিজ্ঞতার ভারসাম্য
জামায়াতের প্রার্থীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৪৩ জনের বয়স ৫০-এর বেশি। ৩১–৪০ বছরের প্রার্থী মাত্র ১২ জন, আর ১৮–৩০ বছরের কোনো প্রার্থী মনোনয়ন পাননি। ৭০ বছরের বেশি বয়সী প্রার্থী ১৭ জন। দলটির সবচেয়ে প্রবীণ প্রার্থী হলেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের মিজানুর রহমান ও গোপালগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ মোল্লা (৭৭ বছর)। সবচেয়ে কম বয়সী প্রার্থী কুষ্টিয়া-৩ আসনের আমির হামজা (৩৩ বছর)।
আয় ও সম্পদের পরিমাপ
হলফনামা অনুযায়ী, প্রার্থীদের মধ্যে ১৫৪ জনের বার্ষিক আয় ১০ লাখ টাকার নিচে। সবচেয়ে বেশি আয়ের প্রার্থী ঢাকা-৭ আসনের এনায়াত উল্লা, যার বার্ষিক আয় ৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের মো. রমজান আলী সবচেয়ে কম আয় (১৫ হাজার টাকা) দেখিয়েছেন।
সম্পদ বিবেচনায় ১১২ জনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ১ কোটি টাকার বেশি। সবচেয়ে ধনী ঢাকা-৭ আসনের এনায়াত উল্লা, যার মোট সম্পদ ১১৬ কোটি টাকা এবং ঋণ ৮৩ কোটি টাকা। সবচেয়ে কম সম্পদ দেখিয়েছেন মাদারীপুর-৩ আসনের মো. রফিকুল ইসলাম মৃধা (১.৫ লাখ টাকা)।
হলফনামার বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা উচ্চ, তবে আয়ের বৈষম্য এবং বয়সের বৈচিত্র্য স্পষ্ট। দলের প্রার্থীদের মধ্যে শিক্ষিত, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেছে, যা নির্বাচনী প্রচার ও ভোটারের কাছে প্রার্থীদের প্রোফাইলকে প্রভাবশালী করে তুলতে পারে।