২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রভাবে দেশের রাজনীতিতে এসেছে নতুন দিগন্ত। তরুণ নেতৃত্বের উত্থান এখন সর্বত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর কেন্দ্রবিন্দুতে নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)।
ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে গঠিত এই দল এখন সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। নিবন্ধন, প্রতীক নির্ধারণ, কমিটি গঠন ও জোট রাজনীতি—সবকিছু সামলাতে গিয়েছে এক বছর। দলীয় সূত্র বলছে, প্রথম ধাপে ১২৫টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, যা তাদের নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া তিন দলীয় জোটও তৈরি করেছে এনসিপি, যেখানে মিত্রদের জন্য আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিশাল সমাবেশে আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। অল্প সময়ের মধ্যে ২১৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়। ৪ মার্চ থেকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও রায়েরবাজারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। তবে কেন্দ্র থেকে জেলা ও উপজেলায় এখনও আহ্বায়ক কমিটি ছাড়া কার্যক্রম চালাচ্ছে দল।
নিবন্ধন ও প্রতীকের লড়াই ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। তিনটি প্রতীক নিয়ে আবেদন করেও ‘শাপলা’ মূল প্রতীকের কারণে নথিভুক্ত হয়নি। শেষমেশ ‘শাপলাকলি’ প্রতীকে নিবন্ধন নিশ্চিত হয়। ৩ ডিসেম্বর দলটির নিবন্ধন সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রাজনৈতিক অবস্থানও বিতর্কে আবদ্ধ। দলটি প্রচলিত দলীয় কাঠামো ও সংস্কার ভাঙার দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে। বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগকে লক্ষ্য করে দেওয়া বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য’ নামে আন্দোলন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দলের দিকনির্দেশনার প্রমাণ।
নাহিদ ইসলাম ও শীর্ষ নেতৃত্ব এক বছর ধরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করছেন। সম্প্রতি গঠিত ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’-এ এনসিপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন অংশ নিয়েছে।
দল ইতিমধ্যেই আসন্ন নির্বাচনের জন্য ১২৫ আসনে প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে। notable প্রার্থীরা হলেন নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১), আখতার হোসেন (রংপুর-৪), হাসনাত আবদুল্লাহ (কুমিল্লা-৪) ও ডা. মাহমুদা আলম মিতু (ঝালকাঠি-১)।
এনসিপি কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সক্রিয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে দল। মানবাধিকার, সুশাসন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে নেতৃত্ব। তবে ভারতবিরোধী অবস্থানে দল এখনও দৃঢ়।
নতুন নেতৃত্বের এই এক বছরের কার্যক্রম এখন পরীক্ষার মুখে। আগামী নির্বাচনের ফলাফলই দেখাবে, কতটা সফলভাবে তারা তরুণ নেতৃত্বের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে।