আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবু নাছের উন্নয়নভিত্তিক ১১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার তুলে ধরেন। এতে শহর ও গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

ইশতেহার ঘোষণায় আবু নাছের বলেন, নির্বাচিত হলে অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ গড়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি জানান, এলাকার মানুষের মৌলিক চাহিদা ও বাস্তব সমস্যাকে সামনে রেখে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।

ইশতেহারের প্রথম ও অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে কালুরঘাট সেতু নির্মাণ দ্রুত বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে চান্দগাঁও, বোয়ালখালী ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ড্রেনেজ ও পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, সময়মতো বেতন-ভাতা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলেন আবু নাছের। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার সংরক্ষণে স্থানীয় কমিউনিটি নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

ইশতেহারে চট্টগ্রাম-৮ আসনের পূর্বাঞ্চলে পরিকল্পিত ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে নতুন সড়ক, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণের কথাও উল্লেখ করা হয়।

স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ এবং কমিউনিটি ক্লিনিক আধুনিকায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্য কারিগরি শিক্ষা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও টেকসই কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

এ ছাড়া দুর্নীতি, ঘুষ, চাঁদাবাজি, মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংমুক্ত একটি নিরাপদ এলাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াত প্রার্থী। বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু এবং কর্ণফুলী নদীর বোয়ালখালী অংশে ভাঙন রোধেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।