বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ তার প্রতি দেশের মানুষের গভীর ভালোবাসারই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়ার জানাজায় বাড়ির ছাদ থেকেও মানুষ অংশ নিয়েছে—এত বিপুল ভালোবাসার কারণ কী, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এক বিরল ব্যক্তিত্ব। নীতির প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন ছিলেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি সারাজীবন লড়াই করেছেন, কারাবরণ করেছেন।”
তিনি বলেন, “শেষদিন পর্যন্ত তিনি অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু কখনো দেশ ছেড়ে চলে যাননি। দেশের প্রতি, মাটির প্রতি এবং মানুষের প্রতি তার গভীর ভালোবাসাই আজ মানুষকে আলোড়িত করেছে।”
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যখন বেগম খালেদা জিয়ার অভিভাবকত্ব সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, ঠিক সেই সময় তার চলে যাওয়ায় মানুষ গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছে। সে কারণেই দেশনেত্রীর নামাজে জানাজায় তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় মানুষ সমবেত হয়েছে এবং চোখের পানি ফেলেছে।
তিনি বলেন, “মানুষ অন্তত এই আশাটুকু নিয়ে গেছে যে, খালেদা জিয়ার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে কর্তব্য রয়েছে, তা তারা পালন করবে। আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অবাধ করে দেশের পক্ষে যে শক্তি—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—সেই শক্তিকে বিজয়ী করবে।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অবস্থা ও খালেদা জিয়া রেখে যাওয়া বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন নিয়ে দলের দায়িত্ব আরও বেড়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “নিঃসন্দেহে দেশনেত্রী যে অবস্থান ও আদর্শ রেখে গেছেন, তাতে তার পুত্র তারেক রহমানের পাশাপাশি বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীর দায়িত্ব আরও বেড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দিয়ে গেছেন, খালেদা জিয়া সেই পতাকাকে আরও শক্তভাবে উঁচু করে ধরেছিলেন। একইভাবে তারেক রহমানও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন—এটাই মানুষের প্রত্যাশা।”
আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতির প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “না। বরং ম্যাডামের চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে যে ভালোবাসা ও আবেগ তৈরি হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে আরও শক্তিশালী করবে।”