ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারের তথ্য বাংলাদেশি গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে জামায়াত আমিরের গোপন বৈঠক হয়েছে—এমন শিরোনামে ও ভাষায় যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও অসত্য।

ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, ভারতীয় ওই কূটনীতিকরাই বৈঠকটি গোপন রাখতে অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুরোধের কারণেই বিষয়টি তখন প্রকাশ করা হয়নি।

এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ধরনের সংবাদের তীব্র নিন্দা জানান এবং ভবিষ্যতে প্রকৃত তথ্য না জেনে বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে জামায়াত আমির লেখেন, আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রয়টার্সের এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন—ভারত যেহেতু প্রতিবেশী রাষ্ট্র, তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো যোগাযোগ, কথাবার্তা বা বৈঠক হয়েছে কি না।

এর জবাবে তিনি জানান, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে অসুস্থতা থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার পর দেশি-বিদেশি অনেক ব্যক্তি ও কূটনীতিক তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন। অন্যান্য দেশের কূটনীতিকদের পাশাপাশি সে সময় ভারতের দুইজন কূটনীতিকও তার বাসায় আসেন এবং অন্যদের মতো তাদের সঙ্গেও তার স্বাভাবিক আলাপ-আলোচনা হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি তখন ওই ভারতীয় কূটনীতিকদের জানান, যেসব কূটনীতিক তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, তাদের সকলের বিষয়েই প্রকাশ্যে জানানো হয়েছে এবং তাদের সাক্ষাৎও প্রচারে আনার ইচ্ছা ছিল। তবে ওই কূটনীতিকরা তখন বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিনি তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন—পরবর্তীতে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক হলে, তা অবশ্যই প্রকাশ্যে আনা হবে এবং সেখানে গোপনীয়তার কোনো সুযোগ নেই।

এ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ভারতের সঙ্গে জামায়াত আমিরের ‘গোপন বৈঠক’ হয়েছে—এমন সংবাদ দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তিনি এ ধরনের সংবাদকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানান।

পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রকৃত বিষয় যাচাই না করে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকার জন্য গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।