দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সফর শেষে প্রত্যেককে মৃত্যুর মধ্যদিয়ে অনন্তকালের আবাসস্থলে প্রবেশ করতে হবে। চিরসত্য মৃত্যুকে ঘিরে তাই জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের পেয়ে বসবেই (পাকরাও করবেই), যদিও তোমরা সুউচ্চ-সুদৃঢ় দুর্গের মধ্যে অবস্থান করো। (সুরা নিসা, আয়াত: ৭৮)
অপর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং কিয়ামতের দিন তাদের পূর্ণমাত্রায় বিনিময় দেয়া হবে। যে ব্যক্তিকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করা হলো এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো, অবশ্যই সে ব্যক্তি সফলকাম হলো, কেননা পার্থিব জীবন ছলনার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়। (সুরা ইমরান, আয়াত: ১৮৫)
এ ক্ষেত্রে মৃত্যুকে ‘আলিঙ্গনের’ পর প্রত্যেকের কাছে তার চিরস্থায়ী আবাসস্থল তুলে ধরা হয়। হাদিসে এসেছে, ইবনু উমার (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন- মারা যাওয়ার পর মৃত ব্যক্তির সামনে তার মূল বাসস্থানকে তুলে ধরা হবে। সে যদি জান্নাতি হয়, তবে জান্নাতের বাসস্থান আর যদি সে জাহান্নামী হয়, তবে জাহান্নামের বাসস্থান। পরে বলা হবে, এই তোমার স্থান। অবশেষে আল্লাহ তা’আলা তোমাকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করবেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১০৭২)
তবে সর্বাবস্থায় মুমিনের প্রত্যাশা থাকে ঈমানের সঙ্গে কালিমা পাঠরত অবস্থায় স্বাভাবিক মৃত্যু। এজন্য বরাবরই মহান রবের দরবারে দু’হাত তুলে দোয়াও করেন মুমিনরা। এমনকি খোদ নবীজিও (সা.) দুর্ঘটনা কিংবা অপঘাতে হঠাৎ মৃত্যু থেকে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে দোয়া করতেন। উম্মতদেরও তিনি এই দোয়া শিখিয়েছেন।
আবুল ইয়ুস্র (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন দোয়া করতেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَدْمِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ التَّرَدِّي وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْغَرَقِ وَالْحَرَقِ وَالْهَرَمِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ يَتَخَبَّطَنِي الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ فِي سَبِيلِكَ مُدْبِرًا وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ لَدِيغًا
বাংলা: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাদমি ওয়া-আযুজুবিকা মিনাত তারাদ্দি, ওয়া-আউযুবিকা মিনাল গারাকি ওয়াল-হারকি ওয়াল-হারাকি ওয়াল-হারামি, ওয়া-আউযুবিকা আন-ইয়াতাখব্বাতানিশ শাইতনু ইনদাল মাওতি, ওয়া-আউযুবিকা আন আমুতা ফি সাবিলিকা মুদবিরান ওয়া- আউযুবিকা আন-আমুতা লাদি-গান।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঘর-বাড়ি ভেঙে চাপা পড়া থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, উচ্চ স্থান থেকে পতিত হওয়ার ব্যাপার থেকে, পানিতে ডুবে, আগুনে জ্বলা ও অধিক বায়োবৃদ্ধি থেকে তোমার আশ্রয় কামনা করছি এবং আমি তোমার নিকট মৃত্যুর সময় শয়তানের প্ররোচনা থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তোমার নিকট যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যু থেকে তোমার আশ্রয় কামনা করি এবং আমি তোমার নিকট দংশনজনিত (সাপ, বিচ্ছুর) কারণে মৃত্যুবরণ করা থেকে বাঁচার জন্য তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৫২)