একটি ম্যাচ কখনো কখনো পুরো একজন ক্রিকেটারের মানসিক জগত ওলটপালট করে দিতে পারে। ভারতের তারকা ওপেনার ও সাবেক অধিনায়ক রোহিত শর্মার ক্ষেত্রে ঠিক সেটাই ঘটেছিল ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে। আহমেদাবাদের সেই রাত যেন তার আত্মবিশ্বাস, শক্তি আর বিশ্বাস—সবকিছু এক মুহূর্তে কেড়ে নিয়েছিল।
ওই বিশ্বকাপে ভারত ছিল দুর্দান্ত ছন্দে। লিগ পর্বে একের পর এক জয়, অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শুরু, এরপর টানা নয় ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠা—সব মিলিয়ে ট্রফির সবচেয়ে বড় দাবিদার ছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র ২৪০ রানে অলআউট হয়ে ৬ উইকেটে হেরে যায় ভারত। সেই হার শুধু একটি ম্যাচ হার ছিল না, ছিল স্বপ্নভঙ্গের তীব্র আঘাত।
এক অনুষ্ঠানে রোহিত নিজেই তুলে ধরেছেন সেই সময়ের মানসিক অবস্থা। তিনি বলেন, “বিশ্বাসই হচ্ছিল না কী হয়ে গেল। মানসিকভাবে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম। বিশ্বকাপের জন্য আমরা মাসের পর মাস প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। ২০২২ সালে অধিনায়ক হওয়ার পর থেকে আমার একটাই লক্ষ্য ছিল—ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানো। সেটা না পারায় মনে হয়েছিল, সব শেষ।”
রোহিত স্বীকার করেন, ওই সময় ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার কথাও মাথায় এসেছিল। “একদম কোনো শক্তি ছিল না। মনে হয়েছিল ক্রিকেটকে দেওয়ার মতো আর কিছু নেই। ওই হতাশা কাটাতে কয়েক মাস লেগে গেছে,” বলেন তিনি।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে আবার গুছিয়ে নেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ধীরে ধীরে বুঝতে শেখেন, একটি হারই জীবনের শেষ নয়। সেই উপলব্ধি থেকেই ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন লক্ষ্য স্থির করেন রোহিত। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্টে ভারতকে শিরোপা জেতান তিনি, আর নিজে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় জানান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে।
রোহিতের ভাষায়, “বিশ্বকাপের হার আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। তখন যেটা অসম্ভব মনে হয়েছিল, আজ সেটা অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে।”
একটি ম্যাচ তাকে ভেঙে দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই ভাঙন থেকেই জন্ম নিয়েছে এক বিশ্বজয়ের গল্প।