বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে লিগ বর্জনের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে স্পষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ। তার মতে, খেলা বন্ধ করে আন্দোলনের সংস্কৃতি শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে ক্রিকেটারদের এবং দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাকে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি প্রীতি ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন ফারুক আহমেদ। সেখানে তিনি ঢাকার শীর্ষ ক্লাবগুলোর লিগ বর্জন প্রসঙ্গে বলেন, “খেলা বন্ধ করলে আসলে কার লাভ হয়, সেটা আমি বুঝি না। কিন্তু ক্ষতিটা হয় খেলোয়াড়দের, ক্ষতিটা হয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের।”

বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচন ঘিরে অভিযোগ তুলে ঢাকার একাধিক শীর্ষ ক্লাব সব ধরনের লিগে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর প্রভাব পড়ে চলমান ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে। শীর্ষ ২০ দলের মধ্যে ৮টি দল টুর্নামেন্টে অংশ নেয়নি, যা ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে।

ফারুক আহমেদ বলেন, বোর্ড ও ক্লাবের এই দ্বন্দ্বে আসলে দুই পক্ষ নয়, এক পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। “ক্লাব যদি খেলতেই না চায়, বোর্ড কী করবে? বিসিবি বারবার আলোচনা করেছে, সমাধানের চেষ্টা করেছে। কিন্তু নিজস্ব স্বার্থের কারণে খেলোয়াড়দের সামনে রেখে খেলা বন্ধ রাখা খুবই হতাশাজনক,”—বলেন তিনি।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যেকোনো ইস্যুতে খেলা বন্ধ করে আন্দোলনের ধারা যদি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে সামান্য বিষয়েও লিগ স্থগিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। “এই সংস্কৃতি চালু হলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে যাবে। এটা নিঃসন্দেহে একটি অশনি সংকেত,”—মন্তব্য তার।

বিসিবির এই শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, সমস্যা থাকলে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত। মাঠে খেলা চলমান রাখাই দেশের ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে জরুরি। নচেৎ এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে প্রতিভা বিকাশ, পেশাদার ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে।