যুব হকি বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক কৃতিত্ব অর্জনের পর বাংলাদেশের তরুণ তারকা আমিরুল ইসলাম দেশে ফিরতেই উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বৃহস্পতিবার বিকেলে আগত বাংলাদেশ দলকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানান হকি ফেডারেশন, সাবেক তারকা খেলোয়াড় থেকে শুরু করে অসংখ্য সমর্থক।
বিশ্বকাপে ১৮ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার মাধ্যমে আমিরুল দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন। এই অর্জনকে কেন্দ্র করে কবে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে—এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান জানান, “আমিরুলকে ১৫ ডিসেম্বর বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং এনএসসির সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছি। উপদেষ্টা পদ শূন্য হওয়ায় এখন সচিব মহোদয়ের সঙ্গে সমন্বয় করেই এগোতে হচ্ছে।”
বাংলাদেশ হকি বরাবরই বড় স্বপ্ন দেখাতে পারে, তবে দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা না হওয়া ও আর্থিক সংকট খেলাটিকে পিছিয়ে দিচ্ছে। রিয়াজুল বলেন, “ক্লাবগুলো অর্থ সংকটে লিগ আয়োজন করতে পারছে না। তিন–চার মাস সময় চেয়েছিল। আমরা এই মাসে আবার সভা ডাকব, যাতে ফার্স্ট ডিভিশন লিগ পুনরায় শুরু করা যায়। খেলোয়াড় তৈরি হবে ক্লাব থেকেই—এটাই কাঠামো।”
তবে তিনি মনে করেন, যুব দলের সাফল্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে। “আমাদের পৃষ্ঠপোষক খুব কম। কিন্তু এই সাফল্যের পর কর্পোরেট সংস্থাগুলো আগ্রহী হবে বলে আশা করি। আগামী জানুয়ারির মধ্যেই ভালো কোনো প্রজেক্ট হাতে নিতে পারব। বিশ্বাস করি, পাঁচ বছরের মধ্যে খুব ভালো একদল নতুন খেলোয়াড় উঠে আসবে।”
দেশে ফিরে আবেগঘন কণ্ঠে আমিরুল বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল ফাইনালে যাওয়া এবং দেশকে ভালো কিছু উপহার দেওয়া। বাংলাদেশের মানুষ যে ভালোবাসা দিয়েছে, তার জন্য কৃতজ্ঞ।”
দলের ডাচ কোচ সিগফ্রেড আইকম্যান মনে করেন—এই সাফল্যের পেছনে পুরো দলের ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। “ছেলেরা একসঙ্গে লড়েছে—কেউ নিজের জন্য খেলেনি। আক্রমণ কিংবা রক্ষণ—সব জায়গাতেই ছিল দলগত প্রচেষ্টা।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এখন আলোচনায় আমিরুল, কিন্তু রকি যে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পেনাল্টি কর্নার এবং স্ট্রোক আদায় করেছে, সেটিও সমান মূল্যবান। ইনজেক্টর, স্টপার, ফ্লিকার—সবাই নিজেদের ভূমিকা অসাধারণভাবে পালন করেছে।”