দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করা সাকিব আল হাসানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। রাজনৈতিক বাস্তবতা, মামলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও হঠাৎ জাতীয় দলে ফেরানোর সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠলেও বিসিবির এক পরিচালক স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন—সাকিবের দেশে ফিরতে বাধা দেখছেন না তারা।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর সাকিব প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকা সত্ত্বেও একাধিক ক্রিকেটার দেশে অবস্থান করছেন। সেক্ষেত্রে সাকিব আল হাসানের দেশে না ফেরার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তার কথায়, “মাশরাফি বিন মুর্তজা বাংলাদেশে আছেন। আরেকজন ক্রিকেটারও ৩ আগস্টের পর দেশে অবস্থান করেছেন। তারা যদি থাকতে পারেন, তাহলে সাকিব কেন পারবেন না?”

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আর বাংলাদেশে ফেরেননি সাকিব। রাজনৈতিক কারণে দেশে না ফেরা, জাতীয় দলের বাইরে থাকা এবং তার বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার কারণে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে দেশে ফেরার জন্য বিমান ধরলেও মাঝপথে যাত্রা বাতিল করতে হয় তাকে। এমন প্রেক্ষাপটে বিসিবির পক্ষ থেকে সাকিবকে আবার জাতীয় দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত অনেককেই বিস্মিত করেছে।

আসিফ আকবর বলেন, সাকিব সংসদ সদস্য হওয়ার অনেক আগেই বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন এবং দেশের ক্রিকেটে তার অবদান অনস্বীকার্য। “সাকিবের নাম বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সেই জায়গা থেকেই আমরা তাকে ফেরাতে চাই,”—বলেন তিনি।

মামলা ও আইনি বিষয় প্রসঙ্গে আসিফ স্পষ্ট করেন, এগুলো বোর্ডের আওতার বাইরে। “সাকিবের ব্যক্তিগত আইনি বিষয় সরকার দেখবে। আমরা বোর্ডের পক্ষ থেকে তাকে খেলোয়াড় হিসেবে চাইছি। কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকায় তাকে রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে,”—যোগ করেন তিনি।

সাকিবের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আসিফ বলেন, “সে শুধু একজন ক্রিকেটার নয়, সে একটা ব্র্যান্ড। এমন খেলোয়াড় হয়তো আগামী ১০০ বছরেও পাওয়া যাবে না।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে ফিরে অবসরের ইচ্ছাও রয়েছে সাকিবের।

অন্যদিকে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান, বোর্ড থেকে সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে হোম ও অ্যাওয়ে—দুই ধরনের সিরিজ খেলার আগ্রহ জানতে চাওয়া হয়েছিল। সাকিব খেলতে আগ্রহী হওয়াতেই তাকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

সব মিলিয়ে, সাকিবের ফেরা এখন শুধু ক্রিকেটীয় নয়—রাজনীতি, বাস্তবতা ও সিদ্ধান্তের এক জটিল সমীকরণে পরিণত হয়েছে।