২০১৯ সালের রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ট্রফি উদযাপনের সময় চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ঘটে ভয়াবহ পদদলিতের ঘটনা। ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এই ভেন্যু আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। নারী বিশ্বকাপের নির্ধারিত ম্যাচও শেষ মুহূর্তে শহর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বেঙ্গালুরুর হোম ম্যাচ আয়োজনের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জল্পনা তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু কর্ণাটক মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে স্বস্তির খবর এসেছে। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আবার আইপিএলের হোম ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব, তবে তা শর্তসাপেক্ষ। স্টেডিয়ামে বড় অনুষ্ঠান বা ম্যাচ আয়োজনের ক্ষমতা নেই—এমন সুপারিশ করেছিল স্বাধীন কমিশনের বিচারপতি জন মাইকেল ডি’কুনহা। জননিরাপত্তার কারণে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে পূর্ণ পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা যাচাই করা ছাড়া কোনো ম্যাচ আয়োজন ঝুঁকিপূর্ণ।

কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার জানিয়েছেন, “আমরা আইপিএলের জন্য চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা অবশ্যই ডি’কুনহা কমিশনের সুপারিশ মেনে নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।” সেই পরীক্ষার জন্য স্টেডিয়ামের পূর্ণাঙ্গ পরিকাঠামোগত ফিটনেস ও নিরাপত্তার রিপোর্ট জমা দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা ‘ন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড ফর টেস্টিং অ্যান্ড ক্যালিব্রেশন ল্যাবরেটরিজ’ থেকে পাঠানো হবে, যারা কঠোর মাপকাঠিতে যাচাই করবেন স্টেডিয়াম ম্যাচ আয়োজনের উপযুক্ত কি না।

আগামী আইপিএলে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে খেলতে পারবেন বিরাট কোহলিরা, তবে শর্ত পূরণ ছাড়া কোনো ম্যাচ আয়োজন সম্ভব হবে না। জুন থেকে শুরু হওয়ার আগে সব প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে বেঙ্গালুরু আবার তাদের হোম ground হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে আইপিএল ম্যাচের জন্য।

শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই চিন্নাস্বামীতে ক্রিকেটের ফিরতি যাত্রা শুরু হবে—এবার তা আর অনিশ্চিত নয়, তবে শর্তসাপেক্ষ।