দেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক পডকাস্টে দীর্ঘ সময় ধরে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের নানা দিক আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তিনি নিজের অনুভূতি ও প্রস্তুতির গল্প তুলে ধরেন।

সাকিব জানান, বিশ্বকাপের আগে তিনি নিজের দলে খেলার সম্ভাবনা কম দেখেছিলেন। “আইপিএলের আগের মৌসুমে সব ম্যাচ খেলেছিলাম হায়দরাবাদের হয়ে। ফাইনালে হেরেছিলাম। তবে পরের মৌসুমে খেলোয়াড়রা ফিরল, দলের পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম—আমি কি যথেষ্ট প্রস্তুত?”—বললেন তিনি। এরপর তিনি হোটেল রুমে একাই নিজের সঙ্গে কথা বলে ট্রেনিং শুরু করেন।

এক মাস কঠোর অনুশীলনের পর তার ওজন কমে যায়। প্রধান কোচ টম মুডি তখন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেও, সাকিব জানান, “আমি বিশ্বকাপে সবাইকে দেখাবো আমি কী করতে পারি।” ট্রেনিং শেষে আয়ারল্যান্ডে গিয়ে তিনটি ফিফটি করেছেন, যদিও ফাইনালে ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি।

দলের জন্য আত্মত্যাগের বিষয়টিও স্মরণ করলেন সাকিব। “দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৫ রান করেছি, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে প্রায় ৬০। ইংল্যান্ডের জোফরা আর্চারের মোকাবেলা করতে হয়েছিল। ১৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টার বোলিং, স্টাম্পে বল হিট—আমি পরের ব্যাটার ছিলাম। সেই ম্যাচের ছয় মারার পর বুঝেছিলাম, আমি কঠিন বোলারদের সঙ্গে খেলতে পারব।”

সেঞ্চুরি হাঁকানো হলেও তেমন উদযাপন না করার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। “আমি নিজের সঙ্গে লিখেছিলাম, প্রতিটি বল খেলব আমার দেশের জন্য, নিজের জন্য নয়। এটা আসলে দলের জন্য।”

সাকিবের এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, তার মানসিক দৃঢ়তা ও দেশের জন্য আত্মনিয়োগই আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। প্রতিটি বল, প্রতিটি ইনিংস—সবই দেশের জন্য উৎসর্গিত।