রোববার (৩০ নভেম্বর) টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় দক্ষিণ আফ্রিকা। বিরাট কোহলির ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫২তম সেঞ্চুরিতে (১২০ বলে ১৩৫) ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৪৯ রান করেছে ভারত। ওপেনিংয়ে নেমে ৫১ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলার পথে ওয়ানডের  সর্বোচ্চ ছক্কার নতুন রেকর্ড গড়েন রোহিত। এই ইনিংসে ৫টি চারের পাশাপাশি ৩টি ছক্কা হাঁকান সাবেক এই অধিনায়ক।

২৭৭ ম্যাচের ২৬৯ ইনিংসে ৩৫২টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন রোহিত। তাতেই পেছনে ফেলেছেন পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদিকে। ২০১৫ সালে খেলা ছাড়া আফ্রিদি ৩৯৮ ম্যাচের ৩৬৯ ইনিংসে হাঁকিয়েছিলেন ৩৫১টি ছক্কা।

অথচ ক্যারিয়ারের শুরুতে ছক্কা মারায় রোহিতের খ্যাতি ছিল না। ক্যারিয়ারের তৃতীয় ইনিংসে জয়পুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ছক্কা আসে তার ব্যাট থেকে। ৪০তম ইনিংসে প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়া পর্যন্ত ১০২৩ বল খেলে মাত্র ৫টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন রোহিত। রোহিতের রূপান্তরের শুরু ২০১৩ সালে বেঙ্গালুরুতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক ইনিংসে ১৬ ছক্কা হাঁকান তিনি, যা ছিল বিশ্বরেকর্ড। ক্যারিয়ারের তিন ডাবল সেঞ্চুরির প্রথমটি এই ম্যাচেই হাঁকান হিটম্যান।
এর আগে ১০২ ইনিংসে তার ছক্কা ছিল মাত্র ৩৬টি, অর্থাৎ প্রতি ছক্কা আসত ১০২.১৪ বলে। এর পরের ৩১৬ ছক্কা মাত্র ১৬৭ ইনিংসে হাঁকিয়েছেন রোহিত, গড়ে প্রতি ২৭.৩৫ বলে একটি করে। এ সময়ে ১৫০ এর বেশি ছক্কা মেরেছেন আর মাত্র দু'জন—জস বাটলার (১৭১) এবং ইয়ন মরগান (১৫৫)। ২০২২ সালে সব ফরম্যাটের অধিনায়ক হওয়ার পর তার ছক্কা মারার এই হার আরও বেড়ে যায়। এ সময়ে ৪৬ ইনিংসে ১০৭ ছক্কা হাঁকিয়েছেন, প্রতি ছক্কা এসেছে মাত্র ১৭.৬৯ বলে।
শহিদ আফ্রিদির রেকর্ড ভাঙতে রোহিতের লেগেছে ১৫ বছর। তার এই রেকর্ডও শিগগিরই ভাঙার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এই মুহূর্তে সক্রিয় ক্রিকেটারদের মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ ছক্কা জস বাটলার (১৮২) ও বিরাট কোহলির (১৫৯)। দুজনই আছেন ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে।  ৩০ বছরের নিচে সবচেয়ে বেশি ছক্কা আফগানিস্তানের রহমানউল্লাহ গুরবাজের—মাত্র ৭০টি!