পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার বৈরিতা ক্রিকেট মাঠেও ছড়িয়ে পড়েছে। পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলা ও অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে দুই দেশের খেলোয়াড়রা ম্যাচ শেষে ক্রিকেটীয় আচরণের বাইরে গিয়ে হাত না মেলানোর প্রথা চালু করেছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে।

রোববার লাহোরে সাংবাদিক সম্মেলনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভী জানান, “যদি ভারত হাত মেলতে চায় না, তবে পাকিস্তানও তা করবে না। ভারত যা করবে তার প্রতিদান দেওয়া হবে। আমরা ভারতের চাপের কাছে নতিস্বীকার করব না। আমাদের নীতি স্পষ্ট এবং ভবিষ্যতেও একই থাকবে।।”

এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হলে তিনবারই ক্রিকেটাররা একে অপরের সঙ্গে হাত মেলেনি। পরবর্তী ইমার্জিং এশিয়া কাপ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ম্যাচগুলোতেও একই ধারা দেখা গেছে। পাকিস্তান বোর্ডের মতে, ভারতের পুনরাবৃত্তি আচরণকে তারা মেনে নেবে না।

নাকভী আরও বলেন, “ওরা একই কাজ বারবার করলে আমরা পিছিয়ে যাব না। আমাদের নীতি কঠোর এবং ক্রিকেটীয় নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করছি।”

পাকিস্তান দলের কোচ সরফরাজ আহমেদও অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ম্যাচে ভারতীয়দের আচরণকে অনৈতিক ও বিতর্কিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “ম্যাচ চলাকালীন ভারতের আচরণ স্বাভাবিক ছিল না এবং ক্রিকেটীয় মানদণ্ডে তা ঠিক ছিল না।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্রিকেটীয় এই ভাঙন দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈরিতার প্রতিফলন। আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হলে এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে, যেখানে হাত না মেলাকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে ধরা হবে।