উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে একই রাতে দুটি ভিন্ন চিত্র। একদিকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) প্রতিপক্ষ অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের মাঠে আক্রমণের ঝড় তোলার পরও গোলের দেখা না পেয়ে হতাশায় মাঠ ছাড়ে। অন্যদিকে দারুণ ছন্দে থাকা আর্সেনাল ক্লাব ব্রুগেকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্য ধরে রাখে।

বুধবার রাতের ম্যাচে সান ম্যামেসে শুরু থেকেই দাপট দেখায় লুইস এনরিকের দল পিএসজি। বল দখলে ৭০ শতাংশের বেশি আধিপত্য রাখাটা তাদের নিয়ন্ত্রণের প্রমাণই দেয়। ম্যাচজুড়ে তারা নেয় ১৭ শট, যার ৮টি ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু গোলরক্ষক এবং নিজেদের ব্যর্থতায় কোনো শটই জালের দেখা পায়নি। বিপরীতে স্বাগতিক বিলবাও সুযোগ তৈরি করলেও একটিও শট রাখতে পারেনি লক্ষ্যে।

প্রথমার্ধজুড়ে পিএসজির খেলা ছিল কিছুটা বিক্ষিপ্ত ও ছন্দহীন। দ্বিতীয়ার্ধে এসে খিচা কাভারৎস্খেলিয়া, গঞ্জালো রামোস আর ফ্যাবিয়ান রুইজেরা বেশ কয়েকটি ধারালো আক্রমণ গড়েন। তবু প্রতিপক্ষের রক্ষণভেদে ব্যর্থ হয়ে গোলশূন্য ড্র-তেই শেষ করতে হয় রাতটা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ তিন ম্যাচে এটি তাদের দ্বিতীয়বার পয়েন্ট খোয়ানো। লিগ ওয়ানে মোনাকোর কাছে হারের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ১৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা।

অন্যদিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষে থাকা আর্সেনাল কয়েক দিন আগে অ্যাস্টন ভিলার কাছে হেরেছিল। সেই হতাশা কাটিয়ে ইউরোপীয় অঙ্গনে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আর্তেতার দল। ক্লাব ব্রুগের মাঠে নেমে ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নেয় গানাররা। সুযোগ পেলেই আক্রমণে ওঠে দুই দলই; শটের সংখ্যায় সমানে-সমানও ছিল। কিন্তু ফিনিশিংয়ে পার্থক্য গড়ে দেন আর্সেনালের ফুটবলাররা।

দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ননি মাদুয়েকে, দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে প্রতিপক্ষকে হতবাক করে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই জোড়া গোল পূরণ করেন তিনি—জুবিমেন্দির ক্রস থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ করে। এরপর ৫৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি দারুণ শটে ব্যবধান বাড়ান। তিন ম্যাচ ধরে ধারাবাহিক গোল করা মার্টিনেল্লি এবার লিগে টানা পাঁচ ম্যাচে গোলের রেকর্ড গড়লেন আর্সেনালের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে।

৬ ম্যাচে ৬ জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ টেবিলের এক নম্বরেই রইল আর্সেনাল। বায়ার্ন মিউনিখ রয়েছে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে। আর ১৩ পয়েন্ট নিয়ে তাদের পেছনে আছে পিএসজি, ম্যানচেস্টার সিটি ও আটালান্টা।