রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কিলিয়ান এমবাপে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও থামছেন না। বৃহস্পতিবার রাতে ইউক্রেনের বিপক্ষে তার জোড়া গোলের ওপর ভর করে ফ্রান্স ৪-০ ব্যবধানে বড় জয় তুলে নিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট। ম্যাচটি এমবাপের ব্যক্তিগত মাইলফলকেও ভরপুর জোড়া গোলের ফলে পেশাদার ক্যারিয়ারে তার গোলসংখ্যা ছুঁয়েছে ৪০০-র ঘর।

ম্যাচ শুরুর আগে ভিন্ন আবহ তৈরি হয় পার্ক দে প্রিন্সে। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ফ্রান্সে জঙ্গি হামলায় নিহত ১৩২ জনকে স্মরণ করে নীরবতা পালন করা হয়; পাশাপাশি ইউক্রেনে চলমান রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংহতি জানানো হয়। তবে খেলা শুরু হতেই স্বাগতিকরা মাঠের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের করে নেয়। প্রথমার্ধে ইউক্রেনের গোলরক্ষক ট্রুবিন বেশ কয়েকটি আক্রমণ সামলে ফেললেও দ্বিতীয়ার্ধে আর চাপ সামলাতে পারেনি দলটি।

ফ্রান্স বল দখলে ছিল ৬৭ শতাংশ সময় এবং মোট ২৩টি শট নেয়, যার মধ্যে ৯টি লক্ষ্যে। বিপরীতে ইউক্রেন ৯০ মিনিটে একটি শটও নিতে পারেনি। ৫৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে এমবাপে দারুণ এক পানেনকা শটে ম্যাচের অচলাবস্থা ভাঙেন। পরে ৭৬ মিনিটে ওলিসে সুবিধাজনক পাস পেয়ে বাঁ পায়ের শটে ব্যবধান বাড়ান। সাত মিনিট পর আবারও এমবাপের ঝলক দ্রুত আক্রমণে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে এটি তার ৫৫তম গোল, যেখানে সর্বোচ্চ গোলদাতা জিরুর (৫৭) রেকর্ড ছুঁতে আর দুই গোল প্রয়োজন।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে নামা হুগো একিতে এমবাপের সুন্দর সমন্বয়ে ৮৮ মিনিটে ফরাসিদের চতুর্থ গোলটি করেন। গ্রুপ ‘ডি’-তে পাঁচ ম্যাচ শেষে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেই ফ্রান্স বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে। সমান সংখ্যক ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে আইসল্যান্ড দ্বিতীয় এবং ইউক্রেন তৃতীয় স্থানে আছে।

ইউরোপ থেকে ইংল্যান্ডের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিট পেল ফ্রান্স। ম্যাচ শেষে কোচ দিদিয়ের দেশম এমবাপের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সে মাঠে থাকলে দলের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। অধিনায়ক ও খেলোয়াড় দুই ভূমিকাতেই আজ সে অসাধারণ।