বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসর শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। মালিকানা সংকটের পর এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে পাকিস্তানের লেগ স্পিনার আবরার আহমেদের নাম প্রত্যাহারের বিষয়টি। শুরুতে ধারণা করা হচ্ছিল, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) নিষেধাজ্ঞার কারণেই বিপিএল খেলছেন না আবরার। তবে এবার জানা গেল, ঘটনার পেছনে রয়েছে ভিন্ন ও গুরুতর একটি কারণ।
পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও সুপার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবরার আহমেদের সম্মতি ছাড়াই তাকে বিপিএলের নিলামে অন্তর্ভুক্ত করে চট্টগ্রাম রয়্যালস। এমনকি সরাসরি চুক্তিতে দলে নেওয়ার বিষয়টিও আগে থেকেই তার অনুমোদন পাওয়া ছিল না। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হন এই তরুণ স্পিনার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রয়্যালস কর্তৃপক্ষ আবরারকে কেবল জানায় যে তারা তাকে দলে নিতে আগ্রহী। কিন্তু আনুষ্ঠানিক সম্মতি কিংবা চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়ার আগেই তার নাম নিলামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আবরার নিজেও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি বিপিএলে খেলার ব্যাপারে কখনোই চূড়ান্ত সম্মতি দেননি।
পরবর্তীতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে চট্টগ্রাম রয়্যালস বিসিবিকে জানিয়ে আবরারের পরিবর্তে অন্য বিদেশি ক্রিকেটার নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। একই সঙ্গে টুর্নামেন্ট থেকে সরে যান দলের আরও দুই বিদেশি ক্রিকেটার—আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিং ও শ্রীলঙ্কার নিরোশান ডিকভেলা।
এদিকে, আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে চট্টগ্রাম রয়্যালস বৃহস্পতিবার বিসিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি পাঠায়, যেখানে তারা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে বিসিবি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকানা নিজেদের হাতে নেয়। ফলে এখন থেকে দলটির খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম বিসিবির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
এই ঘটনাগুলো বিপিএল শুরুর আগেই টুর্নামেন্টের পেশাদারিত্ব ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলোয়াড়ের অনুমতি ছাড়া নিলামে অন্তর্ভুক্ত করা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।