জাতীয় ক্রিকেট লিগে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে সিলেট ও ময়মনসিংহ। দারুণ এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বরিশালকে জেতাতে পারেননি সোহাগ গাজী। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩১৬ রানে থামে বরিশালের ইনিংস। ফলে ৬৩ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। আরেক ম্যাচে রাজশাহীর বিপক্ষে ১০ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে সিলেট। অন্যদিকে ঢাকা ও খুলনার মধ্যকার ম্যাচটি ড্র হয়েছে।

ময়মনসিংহ বনাম বরিশাল:

৪ উইকেটে ১০৮ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে বরিশাল। জাহিদুজ্জামান খান ৪৭ এবং তাসামুল হক ৩৭ রানে ব্যাটিংয়ে ছিলেন। শুরুর ভাগেই ভেঙে যায় এই দুজনের জুটি। দলীয় ১১৪ রানের মাথায় দুর্দান্ত এক থ্রু করে তাসামুলকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। আউট হওয়ার আগে ৬৯ বলে ৪১ রান আসে তার ব্যাট থেকে।  দলীয় ১৮৭ রানে মঈন খানের উইকেট হারায় বরিশাল। ৬৭ বলে ২৯ রান করা মঈনকে সাজঘরে ফেরান শুভাগত হোম। তারপর ৭৫ রানের জুটি গড়েন জাহিদুজ্জামান এবং সোহাগ। ১০১ বলে ৮০ রান করে রাকিবুল হাসানের বলে জাহিদুজ্জামান ফিরে গেলে এই জুটি ভাঙে।  বাকিটা সময় একাই লড়াই করেন সোহাগ গাজী। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দশম সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। দলীয় ২৯৮ রানের মাথায় সোহাগ গাজীকে ফেরান আসাদুল্লাহ গালিব। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৪৯ বলে ১০২ রান। 

৩১৬ রানে অলআউট হয়ে যায় বরিশাল। ফলে ৬৩ রানের দাপুটে জয় পায় ময়মনসিংহ। ময়মনসিংহের হয়ে ৩টি করে উইকেট শিকার করেন আবু হায়দার রনি ও আসাদুল্লাহ হিল গালিব। ম্যাচসেরা হয়েছেন রনি।  সিলেট বনাম রাজশাহী ৩ উইকেটে ১৪৬ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের ব্যাটিং শুরু করে রাজশাহী। হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকিয়েই আউট হয়ে যান এসএম মেহেরব হাসান। ফেরার আগে করেন ৭৮ বলে ৫৫ রান। মেহেরবের বিদায়ের পর রহিম আহমেদকে নিয়ে ৭৭ রানের জুটি গড়েন প্রীতম। ২৭ রান করে রহিম বিদায় নিলে ভাঙে এই জুটি। এরপর ইমন আলিকে নিয়ে ৭৮ রানের জুটি গড়েন প্রীতম। তবে ইমনও বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি প্রীতমকে, বিদায় নেন ২৩ রান করে।  এর মাঝেই সেঞ্চুরি হাঁকান প্রীতম। তিনি আউট হওয়ার পর আর এগোতে পারেনি রাজশাহী। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ২৩৩ বলে ১৪৩ রান। ৩৩৬ রানে অলআউট হয় রাজশাহী। সিলেটের পক্ষে তিনটি করে উইকেট শিকার করেন নাবিল সামাদ ও আবু জায়েদ রাহী। 

মাত্র ৩৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১০ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেয় দলটি। ম্যাচসেরা হয়েছেন দ্বি-শতক হাঁকানো অমিত হাসান।  ঢাকা বনাম খুলনা: ৫ উইকেটে ১৪৯ রান নিয়ে চতুর্থ দিনে খেলতে নামে খুলনা। সৌম্য সরকার ও ইমরানুজ্জামান পেয়ে যান হাফ-সেঞ্চুরির দেখা। এরপর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সৌম্য, আউট হয়েছেন ৭১ বলে ৫৫ রান করে। ইমরান আউট হন ৬৬ রান করে।  ২৮০ রানে অলআউট হয় খুলনা। ঢাকার হয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন সুমন খান। ২টি করে উইকেট নেন ফয়সাল আহমেদ, সালাউদ্দিন শাকিল ও তাইবুর রহমান।  ১৬৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা সংগ্রহ করে ৬ উইকেটে ১২৩ রান। দিন শেষ হয়ে গেলে ম্যাচ ড্র হয়। ঢাকার রায়ান রাফসান করেন ৫৪ রান। খুলনার পক্ষে দুইটি করে উইকেট নেন জিয়াউর রহমান ও মেহেদী হাসান রানা।