সবশেষ রাইজিং স্টার এশিয়া কাপে বাংলাদেশ এ দল রানার্স আপ হয়েছিল। যেখানে বল হাতে দারুণ পারফর্ম করেছিলেন বাংলাদেশ দলের পেসার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। ৫ ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। টুর্নামেন্টজুড়ে তার ইকনোমিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
রাইজিং স্টার এশিয়া কাপে পারফর্ম করায় এবার বিপিএলে দল পেলেন সাকলাইন। তাকে দলে ভেড়াতে বেশ কয়েকটি দল লড়াই করেছিল। শেষ পর্যন্ত ৪৪ লাখ টাকায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স দলে ভেড়ায় সাকলাইনকে। এবারই প্রথমবার বিপিএলে দল পেলেন তিনি।
বিপিএলে দল পাওয়ার পর ঢাকা পোস্টকে সাকলাইন বলছিলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর দরবারে লাখ কোটি শুকরিয়া। তিনি আমাকে এই সুযোগটা করে দিয়েছেন। প্রথমবার খেলব বিপিএল অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছে।'
রংপুরের ছেলে সাকলাইন প্রথমবার মাঠে নামবেন রাজশাহীর হয়ে। তিনি বলেন, 'নিজ বিভাগের হয়ে খেলতে পারলে তো অবশ্যই ভালো ছিল। তবে পাশের বিভাগের হয়ে খেলতে পারছি রাজশাহীতে। আল্লাহপাক যেটা চেয়েছেন সেটাই হয়েছে। নিলামটা আমি সরাসরি দেখতে পারেনি। আত্মীয়ের বাসায় ছিলাম। পরে দেখেছি ওখানে, আলহামদুলিল্লাহ ভালো লাগছিল। সুযোগ পেয়েছি এখন কাজে লাগানোর চেষ্টা থাকবে।'
৪৪ লাখ টাকায় দল পেয়েছিলেন সাকলাইন। যা তুলনামূলক চড়া দাম। এ নিয়ে সাকলাইন বলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ আমি টাকার চিন্তা কখনো করিনি। আমি চিন্তা করছিলাম যেন আমি খেলার সুযোগটা পাই। আমি আমার সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করব। সব সময় এটাই চেষ্টা করেছি যেখানেই খেলি না কেন, সুযোগ পেলে সেটাই দেয়ার চেষ্টা করব।'
সাকলাইন টেপ টেনিসেও পারদর্শী, 'আসলে সবাই জানে যে আমি টেপ-টেনিস খেলি। তবে এটার ধারণা ভুল, আমি আগে খেলতাম। সাথে সাথে ক্লাব ক্রিকেটে খেলেছি- থার্ড ডিভিশন খেলেছি, সেকেন্ড ডিভিশন খেলেছি, ফার্স্ট ডিভিশন ফেলেছি। পরে প্রিমিয়ার লিগ খেলেছি।'
'আমার ক্যারিয়ার শুরু দেরি করে। কারণ ক্রিকেটে এসেছি আমি যখন ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি তখন। মূলত কলেজ লাইফ থেকেই শুরু করেছি আর ক্রিকেট। আমার এই পর্যন্ত পৌঁছানোর পেছনে অনেক মানুষের অবদান। তবে তাদেরকে নাম ধরে মেনশন করতে চাই না, অনেক মানুষ। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।'
সবশেষ এশিয়া কাপের পারফরম্যান্সই বিপিএলের দরজা খুলে দিয়েছে কি না এমন প্রশ্নে সাকলাইন বলেন, 'এটা আসলে আল্লাহপাক কোন দিক দিয়ে রাস্তা খুলে দিয়েছেন। তিনি যা করবেন আমার ভালোর জন্যই করবেন, সবসময় আল্লাহর উপরে আস্থা রাখি।'
সাকলাইন রোনালদোর মতো সেলিব্রেশন করেন। এ নিয়ে তিনি বললেন, 'আমি এমনিতে ব্রাজিলের সাপোর্টার। তবে রোনালদোকে খুব ভালো লাগে। তার কঠোর পরিশ্রমের জন্য, নিজেকে যেভাবে মেইনন্টেন করে। যেভাবে চলাচল করে, সেই হিসেবে সেলিব্রেশনটা চলে আসে।'