বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত নিরাপত্তা বিতর্কের জেরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিত দিলেও সেই অবস্থানের বিরোধিতা করছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটার ও বোর্ড সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আবেগ নয়—বাস্তবতা ও ক্রিকেটের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়াই পাকিস্তানের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।
ভারতে ম্যাচ খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় বিশ্বকাপের সূচি থেকে বাদ পড়ে বাংলাদেশ। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর আবেদন করা হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই শঙ্কার গ্রহণযোগ্যতা খুঁজে পায়নি। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানায় পিসিবি এবং এমনকি বিশ্বকাপ বয়কটের কথাও আলোচনায় আসে। তবে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সম্ভাব্য এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেট ব্যক্তিত্বরা।
সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, পাকিস্তানের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া উচিত। তার মতে, “আইসিসির সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে দল না পাঠানো পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর হবে।” একই মত সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান খালিদ মাহমুদ ও সাবেক সেক্রেটারি আরিফ আলী আব্বাসীর। আব্বাসী বলেন, “বাংলাদেশকে সমর্থন করা নৈতিকভাবে সঠিক, কিন্তু সেটার জন্য বিশ্বকাপ বয়কট করলে বাস্তব কোনো অর্জন হবে না।”
সাবেক নির্বাচক ও কোচ মহসিন খানও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পক্ষে। তিনি মনে করেন, ভারতের সঙ্গে দ্বন্দ্ব থাকলেও পাকিস্তানের সব ম্যাচ তো শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে—তাহলে বয়কটের যৌক্তিকতা কোথায়? তার ভাষায়, “এটা পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য নেতিবাচক বার্তা হবে।”
সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম উল হক ও মোহাম্মদ ইউসুফ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দিক বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। ইনজামামের মতে, “পাকিস্তানের দল বড় মঞ্চে ভালো করে, বিশ্বকাপে তাদের লড়াই করা দেখতে চায় দর্শকরা।”
সাবেক কোচ হারুন রশিদও বিশ্বাস করেন, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নেবে। তার মতে, নীতিগত অবস্থান নেওয়া হয়েছে, এখন সময় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার।
সব মিলিয়ে সাবেক তারকাদের বার্তা একটাই—রাজনৈতিক বার্তার চেয়ে ক্রিকেটের স্বার্থই হোক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি।