মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) অ্যাশেজের চতুর্থ টেস্ট যেন রীতিমতো পেসারদের রাজত্বে পরিণত হয়েছে। প্রথম দিনেই ১৩০ বছরের পুরোনো এক রেকর্ড ছুঁয়ে ২০ উইকেট পড়ার পর দ্বিতীয় দিনেও সেই দাপট অব্যাহত থাকে। ইংল্যান্ডের গতিময় বোলিং আক্রমণের সামনে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস থেমে যায় মাত্র ১৩২ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে পাওয়া ৪২ রানের লিড যোগ হয়ে ইংলিশদের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭৫ রান।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা স্থিরতার চেষ্টা করলেও মধ্যাহ্ন বিরতির পর ইংল্যান্ডের পেসাররা যেন ঝড় তুলেন। দ্বিতীয় সেশনে মাত্র ১০ ওভারের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার বাকি উইকেটগুলো পড়ে যায়। সুইং, বাউন্স ও গতির মিশেলে ব্যাটারদের দাঁড়াতেই দেননি ইংলিশ বোলাররা।

পরিসংখ্যান বলছে, গত ৩০ বছরে চলমান কোনো টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ৪৭৯ বল খেলতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়া—যা বিরল এক নজির। একই সঙ্গে দুই ইনিংসে মোট ২৮৪ রান নিয়ে এটি ২০০০ সালের পর অজিদের তৃতীয় সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। প্রথম ইনিংসে ১৫২ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩২ রানে অলআউট হওয়াই ম্যাচের গতিপথ স্পষ্ট করে দিয়েছে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন ট্রাভিস হেড। ৬৭ বলের ইনিংসে চারটি বাউন্ডারি মারেন তিনি। ক্যামেরন গ্রিন করেন ১৯ রান। অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ ২৪ রানে অপরাজিত থাকলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। সবমিলিয়ে মাত্র তিনজন ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছান।

ইংল্যান্ডের পক্ষে পেস আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন ব্রাইডন কার্স। তিনি শিকার করেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। অধিনায়ক বেন স্টোকস নেন ৩টি, আর জশ টাংয়ের ঝুলিতে যায় ২টি উইকেট। চোটের কারণে গাস অ্যাটকিনসন সীমিত ওভার করলেও একটি উইকেট তুলে নেন তিনি।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড ১১০ রানে গুটিয়ে গেলেও অস্ট্রেলিয়াকে খুব বেশি দূরে যেতে দেয়নি তাদের বোলাররা। এখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ইংল্যান্ডের হাতে। পেসারদের সহায়তা অব্যাহত থাকলে ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করাও এমসিজির এই উইকেটে মোটেও সহজ হবে না—সেটিই এখন দেখার বিষয়।