এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ আগামী ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। এই ম্যাচের আগে জাতীয় দলকে প্রস্তুত করতে আরও একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। শনিবার জাতীয় দল কমিটির সভায় প্রীতি ম্যাচ আয়োজন ও ক্যাম্প শুরুর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান হলেও তার অনুপস্থিতিতে সভায় সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান। সভা শেষে ফেডারেশনের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ও জাতীয় দল কমিটির সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবু সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিনি জানান, আগামী ২০ মার্চ থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হবে। প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বাফুফে হোম ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও করছে। সে ক্ষেত্রে ম্যাচটি সিলেটে আয়োজনের সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হামজা চৌধুরির বাড়ি হবিগঞ্জ হওয়ায় সিলেট অঞ্চলের ফুটবলপ্রেমীদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখার সুযোগ করে দিতে আগ্রহী ছিল বাফুফে। এর আগেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ সিলেটে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল, তবে নিরাপত্তা, মাঠ ও স্টেডিয়ামসহ সার্বিক প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

মাত্র দেড় মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন সম্ভব কি না— এমন প্রশ্নে ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান বলেন, “এক মাসে অনেক কাজ করা সম্ভব। আমরা আশাবাদী, চেষ্টা করে দেখা যাক।” ফুটবলসংশ্লিষ্টদের মতে, ম্যাচ আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে স্টেডিয়াম ও মাঠের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চায় বাফুফে। তবে বাস্তবতায় সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে হোম ম্যাচ হলে সেটি ঢাকায়, জাতীয় স্টেডিয়ামেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

প্রীতি ম্যাচের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে কম্বোডিয়া, পূর্ব তিমুর ও ভিয়েতনামের সঙ্গে আলোচনা চলছে। র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা ভিয়েতনাম বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে তেমন আগ্রহ দেখায়নি। পূর্ব তিমুর হোম কিংবা অ্যাওয়ে—দুই জায়গাতেই খেলতে আগ্রহী। অন্যদিকে কম্বোডিয়া চাইছে নিজেদের মাঠে ম্যাচ আয়োজন করতে। বিষয়গুলো কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন। এছাড়া জুন উইন্ডোতে মালদ্বীপের চার জাতির টুর্নামেন্টের আমন্ত্রণ থাকলেও আজকের সভায় এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

জাতীয় দলের কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তার দল পরিচালনা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে এবং সমর্থক, সাবেক ফুটবলার এমনকি ফেডারেশন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ তার পদত্যাগও দাবি করেছেন। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজকের সভায় ক্যাবরেরাকে নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুর ম্যাচের পরই ক্যাবরেরার সঙ্গে বাফুফের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

এদিকে বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান একই সঙ্গে বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জাতীয় দল কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান। সম্প্রতি বসুন্ধরা কিংস জাতীয় দলের ক্যাম্পের শুরুতে খেলোয়াড় ছাড়েনি—এ নিয়ে আলোচনা ছিল। তবে ২০ মার্চ ক্যাম্প শুরুর সিদ্ধান্তের পর ক্লাবগুলো খেলোয়াড় ছাড়বে কি না—এমন প্রশ্নে ইমরুল হাসান বলেন, “জাতীয় দলে খেলোয়াড় ছাড়ার বিষয়ে ফিফার গাইডলাইন আছে। ১৭ মার্চের পর অনেকদিন বিরতি থাকবে। আশা করি ক্লাবগুলো এবার খেলোয়াড় ছাড়তে কোনো সমস্যা করবে না।”

সব মিলিয়ে সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে জাতীয় দলের প্রস্তুতিতে বাড়তি গুরুত্ব দিতে চাইছে বাফুফে, যার অংশ হিসেবে প্রীতি ম্যাচ ও আগেভাগে ক্যাম্প শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।