ভারতের মহিলা ক্রিকেটার স্মৃতি মান্ধানার পরিবারিক সমস্যা ও বিয়ে সংক্রান্ত অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে অস্ট্রেলিয়ান ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বিগ ব্যাশে খেলবেন না জেমিমাহ রদ্রিগেজ। ভারতের প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের পর স্মৃতি ও জেমিমাহর বন্ধুত্বের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তটি আসে।

নভেম্বরের শুরুতে ভারতের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে জেমিমাহর অসাধারণ সেঞ্চুরির মাধ্যমে ভারত সেমিফাইনাল পার হয়। শিরোপা জয়ের পর তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে যোগ দেন। কিন্তু স্মৃতি মান্ধানার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় বিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়। এরই মধ্যে পরিবারের পাশে থাকতে জেমিমাহ অস্ট্রেলিয়া ফেরার সিদ্ধান্ত নেননি।

ব্রিসবেন হিটের হয়ে তিনি তিনটি ম্যাচে খেলে মাত্র ৩৭ রান করেন, স্ট্রাইকরেট ১০২.৭৭। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “জেমি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তার অনুপস্থিতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা তাকে ভারতে থাকার অনুমতি দিয়েছি এবং স্মৃতি ও তার পরিবারের পাশে থাকার সুযোগ দিচ্ছি।”

জেমিমাহ ইতিমধ্যেই হোবার্ট হারিকেন্সের ম্যাচের পর ভারতে ফিরে এসেছিলেন। তিনি শেষ চারটি ম্যাচে না খেলার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন, যা মঞ্জুর করা হয়েছে। ব্রিসবেন হিটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জেমিমাহের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে স্মৃতির পরিবারকে সমর্থন করার উদ্দেশ্যে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মৃতি মান্ধানা তার বিয়ে সংক্রান্ত সব পোস্ট মুছে দিয়েছেন। গত বিয়ের দিন ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশট ও পলাশ মুচ্ছলের সম্পর্কের গুজবও সামাজিক মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যদিও পরে মেরি ডি’কস্টা নামের তরুণী জানান, তার পলাশের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না।

পরিবারিক বিপর্যয়ের মধ্যে স্মৃতির বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এখন পর্যন্ত বিয়ের নতুন তারিখ বা অনুষ্ঠানের বিষয়ে পরিবার থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

জেমিমাহর এই পদক্ষেপ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে, কারণ তিনি বন্ধুর ও পরিবারের পাশে থাকার গুরুত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যা ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের মধ্যে সঠিক ভারসাম্যের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।