আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেলতে পারার ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক।
গত শনিবার শেষ মুহূর্তে আইসিসি সূচি পরিবর্তন করে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে। এই পরিস্থিতির সূত্রপাত মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বলে মনে করেন আমিনুল।
গণমাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন,
“মুস্তাফিজ ইস্যুতে বিসিবি নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছে। বিষয়টি যদি বোর্ড, আইপিএল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত, তাহলে বিশ্বকাপের মতো বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।”
তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মীয় ইস্যু ব্যবহার করে মুস্তাফিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যা কূটনৈতিক ও পেশাদারভাবে সামলানো হয়নি।
আমিনুল হক বলেন,
“এই হঠকারী সিদ্ধান্তে দেশের ক্রিকেট ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখানে যদি কারও দুরভিসন্ধি উদ্দেশ্য থাকে, তা তদন্ত করে বের করা উচিত। বাংলাদেশের জনগণ সেটার জবাব দেবে।”
বোর্ড পরিচালকদের বক্তব্য ও ক্রিকেটারদের খেলা বয়কট প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“ক্রিকেটাররা খেলবে না—এমন সিদ্ধান্ত যেমন শোভন নয়, তেমনি বোর্ড পরিচালকদের কিছু বক্তব্যও দায়িত্বজ্ঞানহীন। উভয় পক্ষেরই পেশাদার আচরণ বজায় রাখা জরুরি।”
বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আনলেও, সমন্বয়ের ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন তিনি।
“সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা। তবে ভারতীয় বোর্ড, বিসিবি ও আইসিসির সঙ্গে বসে আলোচনা করলে এই সিদ্ধান্ত আরও ভালোভাবে নেওয়া যেত।”
আমিনুল আরও বলেন,
“বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপে খেলছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আছে। বিশ্বকাপ খেলবে—এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। দেশের মানুষ সেটাই চেয়েছিল।”
শেষে তিনি বলেন,
“নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে ঠিকই, তবে পেশাদারিত্ব ও যোগাযোগের অভাব যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না করে—সেদিকে সবার নজর দেওয়া উচিত।”